×
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Active News 24
ভোটে আটকানো যায়নি ৪৫ ঋণখেলাপিকে 

ভোটে প্রার্থী হওয়া থেকে আটকানো যায়নি ৪৫ ঋণখেলাপিকে 


প্রধান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ইনসাফ নিউজ | মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম ভোটে প্রার্থী হওয়া থেকে  আটকানো যায়নি ৪৫ ঋণখেলাপিকে 

ঋণখেলাপি হয়েও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন অন্তত ৪৫ জন প্রার্থী।

 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকার কথা থাকলেও আইনি ফাঁকফোকর, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং আপিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা প্রার্থিতা বহাল রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

 


ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাই ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। এ পর্যায়ে ঋণখেলাপির অভিযোগে ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হলেও আপিলে ১৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

 

বাকি ৬৭ জনের মনোনয়ন বাতিলই বহাল রয়েছে। তবে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের অনেকেই উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

ফলে নির্বাচন ঘিরে ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) তালিকায় ঋণখেলাপি হিসেবে নাম থাকলেও মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই ৩১ জন প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

 

 

রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব স্থগিতাদেশের ভিত্তিতেই তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। তবে আপিল শুনানিতে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হয়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকলেও তিনি হলফনামায় ঋণ না থাকার তথ্য উল্লেখ করায় নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে।

 


ইসি আপিল শুনানিতে ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে পক্ষপাতের অভিযোগও উঠেছে। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নিজেই বলেন,
“আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। আইন তাদের অনুমতি দিয়েছে বলেই ছাড় দিতে হয়েছে।”

 


কিছু আসনে ইসির সিদ্ধান্তে ভিন্নতা স্পষ্ট হয়েছে। যেমন—চট্টগ্রাম-২ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করা হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

 

তাঁর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দুটি ব্যাংক আপিল করলেও ইসি তা খারিজ করে দেয়।

 

এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ মন্তব্য করেন,
“মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন।”
শুধু বিএনপি নয়, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা জামায়াতে ইসলামীর দুইজন প্রার্থী, ইসলামী আন্দোলনের দুইজন, পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, লেবার পার্টি, এনপিপি ও সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ঋণখেলাপির অভিযোগ থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

 


অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই ঘোষণা দিয়ে আসছিল—কোনো ঋণখেলাপি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও একই অবস্থানের কথা জানান। তবে বাস্তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সেই অবস্থান কার্যকর করা যায়নি।

 


ড. আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, আদালতের আদেশ নিয়ে কেউ যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য আইন সংশোধন প্রয়োজন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

 

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও স্বীকার করেন, আদালতের স্টে অর্ডারই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 


বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল ঋণখেলাপিদের তথ্য সরবরাহ করতে পারে। কারও প্রার্থিতা বাতিল বা বহাল করার ক্ষমতা তাদের নেই। আদালত বা নির্বাচন কমিশন বৈধতা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেখানে কিছু করার সুযোগ থাকে না।

 


ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কোনো ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হলে তারা রাজপথে নামবেন।

 


এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন,
“কোনো ত্রুটি কিংবা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া হলে তা ভালো লক্ষণ নয়।

 

এতে ঋণখেলাপির সমস্যা আরও জটিল হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের মতো এবারও আইনের সীমাবদ্ধতা ও আদালতের আদেশকে কাজে লাগিয়ে ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে সরকারের ঘোষিত কঠোর অবস্থান বাস্তবে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

রাজনীতি বিভাগের আরো খবর