চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন পাটচাষিরা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা।
উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম না পেলে আগের বছরের মতো এবারও লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
জেলার আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও গ্রামে এবার ব্যাপকভাবে পাটের আবাদ হয়েছে।
তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর চরাঞ্চলের অনাবাদি ও বন্যাপ্রবণ জমিসহ উঁচু এলাকাগুলোতেও পাট চাষে আগ্রহ দেখা গেছে কৃষকদের মধ্যে।
তবে ফলন কম হওয়ায় সেই আগ্রহে ভাটা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কেউ কেউ ইতোমধ্যে পাটের আঁশ শুকানোর কাজ শেষ করেছেন, আবার অনেকের পাট এখনও পচানোর পর্যায়ে রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে খরার কারণে সেচের অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে।
পরে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পাটের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
পাশাপাশি রোগবালাইয়ের প্রকোপও ছিল তুলনামূলক বেশি।
ফলে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায়নি।
আদিতমারী উপজেলার কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, প্রকৃত পাটচাষিদের প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
প্রকৃত চাষিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুর রাসেল জানান, জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পাটের গাছ লম্বা হয়নি এবং আঁশের মানও ভালো হয়নি।
এতে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
চরাঞ্চলের কৃষক রমনী কান্ত বলেন, প্রতি বছরই আশা নিয়ে পাট চাষ করলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হতে হয়।
এবার ফলনও কম হয়েছে।
সরকারিভাবে পাটের দাম নির্ধারণ এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনার ব্যবস্থা করা হলে তারা উপকৃত হবেন।
পাটচাষিদের অভিযোগ, পাট কাটার মৌসুমে স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
এতে কৃষকরা কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন।
পরে সেই পাট বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মতিউল আলম জানান, চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ হেক্টর বেশি।
তবে অতিবৃষ্টির কারণে ফলন কিছুটা কম হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হবে।
তিনি আরও জানান, জেলায় বর্তমানে তোশা, দেশি ও ক্যানাফ—এই তিন ধরনের পাটের চাষ হয়ে থাকে।


























আপনার মতামত লিখুন :