বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইতিবাচক ফল দিলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার
ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি এখনও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত “The Promise of Artificial Intelligence” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিংয়ের হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
তবে দরিদ্র পরিবার শনাক্ত করে নগদ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ডেটাভিত্তিক এআই অ্যালগরিদম প্রথাগত জরিপভিত্তিক পদ্ধতির তুলনায় কম নির্ভুল ফল দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইভিত্তিক দরিদ্র শনাক্তকরণ পদ্ধতি প্রচলিত জরিপের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ভুল করেছে।
ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার বাদ পড়া বা অযোগ্য পরিবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদনে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রায় ৬৮০ কোটি মানুষের জীবনে এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, এআই এমন একটি সাধারণ ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি যা বাষ্পীয় ইঞ্জিন বা বিদ্যুতের তুলনায় অনেক দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, চ্যাটজিপিটি চালুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এর ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ মধ্যম আয়ের দেশগুলো থেকে এসেছে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ডিজিটাল অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ও দক্ষ মানবসম্পদের অভাব থাকলে এআইয়ের সুফল সর্বস্তরে পৌঁছানো কঠিন হবে।
এ কারণে কম বিদ্যুৎ ও দুর্বল ইন্টারনেটেও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় এমন “স্মল এআই” প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করছে এবং ডিজিটাল সেবার বিদ্যমান কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এআই ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে।
তবে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার গ্রহণে উচ্চ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যয় বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক
সম্প্রসারণ ব্যয়বহুল, সেখানে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরির পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কাউন্সিল অব ইউরোপের এআই কনভেনশন অনুসমর্থনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পোশাক শিল্প নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
এতে বলা হয়, স্বয়ংক্রিয় কাটিং ও সেলাই প্রযুক্তি বহুদিন ধরে থাকলেও বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে এর ব্যবহার সীমিত।
কারণ প্রযুক্তির খরচের তুলনায় স্থানীয় শ্রমের মজুরি কম হওয়ায় উদ্যোক্তারা এখনও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুবিধা দেখছেন না।
বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এআই ব্যবহারের ফলে কর্মসংস্থানের ধরনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বহুজাতিক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে চ্যাটজিপিটি চালুর পর নিয়োগের হার প্রায় ১ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে বলেছে, এআই ব্যবহারে স্থানীয় প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য দেশের তথ্য দিয়ে তৈরি কোনো এআই টুল সরাসরি ব্যবহার করলে তার নির্ভুলতা কমে যেতে পারে।
তাই বাংলাদেশের মতো দেশে দরিদ্র শনাক্তকরণসহ সংবেদনশীল সামাজিক খাতে এআই
ব্যবহারের আগে স্থানীয় তথ্য, মানবিক যাচাই ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

























আপনার মতামত লিখুন :