চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর প্রতি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী এবং এ সংকট নিরসনে ব্রিকসকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তার মতে, চলমান যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাপক দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
শি জিনপিং আরও বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত সব ধরনের সুরক্ষাবাদ প্রত্যাখ্যান করা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে (ডব্লিউটিও) কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থন করা।
তিনি বাণিজ্য বাধা ও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
চীনা প্রেসিডেন্ট ব্রিকসকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জোটটির আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী বছর চীন ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।
এদিকে সম্মেলন শুরুর আগে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকায় যৌথ ঘোষণার ভাষা নির্ধারণে বেশ কয়েকদিন আলোচনা করতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এমন একটি ভাষায় ঐকমত্য হয়েছে, যা উভয় দেশই গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করছে।
নয়াদিল্লির এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোতে বসবাস করে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও জোটটির অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

























আপনার মতামত লিখুন :