চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার চারটি প্রকল্প নেওয়া হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
প্রকল্পগুলোর পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
অথচ সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
এতে নাগরিক দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
সোমবার মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে রেয়াজুদ্দিন বাজার ও তামাকুমণ্ডি লেনের প্রায় ১৩০টি মার্কেটের ৮০০ দোকান পানিতে ডুবে যায়।
এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও নাগরিকদের দুর্ভোগ ও ক্ষতি কমেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে যথাযথ সমীক্ষার ঘাটতি, পানিপ্রবাহ ও জোয়ার-ভাটা বিবেচনায় না নেওয়া,
খাল-নালা ও জলাধারের সক্ষমতা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ না করা এবং অপরিকল্পিত জলকপাট নির্মাণের মতো সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলো কাঙ্ক্ষিত সুফল দিচ্ছে না।
নগরীর ৭৪টি খালের মধ্যে বড় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাত্র ৩৬টি।
ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খাল প্রকল্পের বাইরে থাকায় জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা কঠিন।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, জলাবদ্ধতা নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।
একই সমস্যা সমাধানে পৃথকভাবে প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর সমন্বয় হয়নি।
এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এখন প্রয়োজন দায় এড়িয়ে যাওয়ার বদলে বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চলমান প্রকল্পগুলো পরিমার্জন ও সমন্বয় করতে হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের আগে প্রকল্পের কার্যকারিতা, পরিবেশগত বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তাই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কেবল নগরবাসীর সমস্যা নয়; এর প্রভাব পড়ে জাতীয় অর্থনীতিতেও।
জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ যেন অকার্যকর প্রকল্পে অপচয় না হয়, সে বিষয়ে বর্তমান সরকারকে কঠোরভাবে নজর দিতে হবে।
জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দাবি।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

























আপনার মতামত লিখুন :