হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পরপরই সৌদি আরবের তেলবাহী দুটি সুপারট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ও ম্যারিস্কস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ম্যারিস্কসের তথ্য অনুযায়ী, ওমানের জলসীমার কাছে প্রায় একই সময়ে সংঘটিত এ দুটি হামলা অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
কেপলার জানিয়েছে, আক্রান্ত দুটি জাহাজ গত সপ্তাহে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল বহন করেছিল।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একাধিক অবরোধ ও নিরাপত্তা কড়াকড়ির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে প্রণালিটি সচল রাখতে কাতার ও ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমঝোতা হয়নি।
এদিকে জুলাইয়ের শেষভাগের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
ম্যারিস্কস জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ১৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে সৌদি পতাকাবাহী ‘সিদর’ নামের একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কয়েক মিনিটের ব্যবধানে খাসাব থেকে প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল পূর্বে লিবিয়ার পতাকাবাহী ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের আরেকটি ভিএলসিসিও তিনটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে উভয় জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) একই এলাকায় একটি তেলবাহী জাহাজে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার তথ্য দিয়েছে।
তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

























আপনার মতামত লিখুন :