×
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Active News 24
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: বিচার হয়নি আজও

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: বিচার হয়নি আজও


ইনসাফ নিউজ | সাভার প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১০:৩১ এএম রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: বিচার হয়নি আজও

 

​তেরো বছর আগের সেই অভিশপ্ত সকালের স্মৃতি আজও সাভারের আকাশে-বাতাসে হাহাকার হয়ে ভাসে।

 

আজ ২৪ এপ্রিল, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির এক যুগ পেরিয়ে ১৩ বছরে পদার্পণ। 

২০১৩ সালের এই দিনে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছিল রানা প্লাজা ভবনটি, যার নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক।

 

আজ এক যুগ পরেও নিহতদের স্বজন আর পঙ্গুত্ব বরণ করা শ্রমিকদের মনে একটাই প্রশ্ন—ন্যায়বিচার কি আদৌ হবে?

​বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনার পর হত্যা, ইমারত নির্মাণ বিধি লঙ্ঘন এবং দুর্নীতিসহ মোট ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। 

কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছরেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। জানা গেছে, এই ছয়টি মামলার মধ্যে কেবল সম্পদের তথ্য গোপনের একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যাতে ভবন মালিক সোহেল রানার তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।

 

বাকি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাই এখন আইনি মারপ্যাঁচে ঝুলে আছে।

​প্রধান হত্যা মামলাটির দিকে তাকালে দেখা যায়, ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে গত ১৩ বছরে মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়েছে। 

দীর্ঘ ছয় বছর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এই মামলার বিচারকাজ বন্ধ ছিল। যদিও বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করছে, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই এই মামলার রায় হতে পারে, তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

 

ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাটিও বছরের পর বছর ধরে সাক্ষীর অভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।

​আসামিদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ভুক্তভোগীদের মনে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। মামলার ৪১ জন আসামির মধ্যে ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া বাকি প্রায় সবাই এখন জামিনে মুক্ত। 

সাভার পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ ১২ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

 

ওদিকে সোহেল রানার আইনজীবীরা একে ‘বিনা বিচারে দীর্ঘ হাজতবাস’ বলে দাবি করে জামিন চাইলেও রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, মামলার ভয়াবহতার কারণেই তারা সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করছেন।

​রানা প্লাজা ধসের পর আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছিল। 

এরপর কারখানার পরিবেশে অনেক পরিবর্তন এলেও বিচারের ক্ষেত্রে সেই গতি দেখা যায়নি।

 

আজ সকালে ধসে পড়া ভবনের সামনে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর পার হলেও বিচার না হওয়াটা তাঁদের কাছে দ্বিতীয়বার মৃত্যুর সমান।

​তেরো বছর আগের সেই ক্ষতের বিচার কবে শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও।

 

স্বজনহারা পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে অন্তত দ্রুত যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।

ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

আইন-আদালত বিভাগের আরো খবর