জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা।
ফলে প্রতিদিন বাসে অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
আবাসিক হলের সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসই প্রধান ভরসা হলেও পর্যাপ্ত বাস না থাকায় দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত আসনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি শিক্ষার্থী প্রতিদিন বাসে ওঠেন।
অনেক সময় বাসের ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না।
কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাসের দরজায় ঝুলে যাতায়াত করেন।
বিশেষ করে দূরবর্তী রুটের শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।
নরসিংদী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী এক শিক্ষার্থী জানান, সকাল সাড়ে ৮টার ক্লাস ধরতে তাঁকে ভোর সাড়ে ৪টা থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়।
বাসে আসন না পেলে তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।
লোকাল বাসে উঠলেও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও হাফ ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৮টি বাসে মোট আসন রয়েছে দুই হাজারের কিছু বেশি।
বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করছেন পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।
ফলে আসনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে তীব্র ভিড়।
গাজীপুর রুটের এক শিক্ষার্থী জানান, তাঁর বাসে আসন মাত্র ৫০টি হলেও প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন।
যানজটের কারণে কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় কাটানোর পাশাপাশি বাসে জায়গা না পেলে লোকাল বাসে উঠতে হয়।
সেখানেও হাফ ভাড়া নিয়ে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহন সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও এর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি।
কয়েকটি নতুন রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছেন জকসুর পরিবহন সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিদ হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারিক বিন আতিক জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৭টি রুটে একতলা এবং ১৩টি রুটে দোতলা বাস চলছে। দোতলা বাসগুলোর মধ্যে মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব; অন্যগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও ব্যস্ত রুটে অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন বাস প্রয়োজন হলেও পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় তা কেনা সম্ভব হয়নি।
তবে নতুন অর্থবছরে এ সংকট কাটানোর আশার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, পরিবহন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে নতুন বাস কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু নতুন বাস কেনার উদ্যোগ নয়, দ্রুত নতুন রুট চালু, পর্যাপ্ত বাস বরাদ্দ এবং নিরাপদ ও নিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ পরিবহন সংকটের কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

























আপনার মতামত লিখুন :