টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে অবস্থিত বিশ্বকবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এতে দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুঠিবাড়ির মূল ফটক, মুক্তমঞ্চের সামনের অংশ, ম্যুরালের পাদদেশ ও জাদুঘর চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে রয়েছে।
ফুল ও ফলের বাগানের গাছপালাও পানিতে ডুবে নুয়ে পড়েছে।
ফলে দর্শনার্থীরা কেবল পাকা পথ ধরে চলাচল করতে পারছেন; কুঠিবাড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে।
রাজবাড়ীর পাংশা থেকে আসা দর্শনার্থী হাবিব খান বলেন, “অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল কবির বাড়ি দেখব।
কিন্তু এসে দেখি পুরো এলাকা পানিতে ডুবে আছে। ছবি তোলার মতো শুকনো জায়গাও নেই।”
রাজশাহী থেকে শিক্ষা সফরে আসা নাহিদ খান জানান, তারা ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এসেছেন।
মুক্তমঞ্চে কবিতা আবৃত্তি ও আমবাগানে ছবি তোলার পরিকল্পনা থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান আল আমীন বলেন, “আমাদের নিজস্ব কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।
আগে বৃষ্টির পানি পাশের বিলে চলে যেত।
কিন্তু এবার বিলটি পানিতে পূর্ণ থাকায় উল্টো বিলের পানি কুঠিবাড়িতে ঢুকে পড়ছে।”
তিনি আরও জানান, কুঠিবাড়ির পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের একটি সরু নালা ছিল, যা দখল ও দূষণের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত পানি অপসারণের ব্যবস্থা না নিলে অবকাঠামো ও মূল্যবান প্রত্নসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কুঠিবাড়ির কর্মচারীরা জানান, জাদুঘরের ভেতরে ও বাইরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং বাগানের অনেক গাছ মারা যাওয়ার উপক্রম।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, “বিষয়টি জেনেছি।
সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
দর্শনার্থীদের দাবি, শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যিক সম্পদ।
তাই প্রতিবছরের পুনরাবৃত্ত জলাবদ্ধতা দূর করতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

























আপনার মতামত লিখুন :