ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিন ছাড়াই ভুলবশত হত্যা মামলার তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কারাগারের বাইরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মুক্তি পাওয়া তিন আসামি হলেন— মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম।
তারা সবাই ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার তারাটি এলাকার বাসিন্দা এবং একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দি ছিলেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এটি একটি ‘ভুল মুক্তি’।
তিনি বলেন, কারাগারের এক কর্মকর্তা ভুলবশত প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করে আসামিদের ছেড়ে দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, মূলত প্রডাকশন ওয়ারেন্টকে ভুল করে জামিননামা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার ফলে এই তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বরত ডেপুটি জেলার অসতর্কতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
গাফিলতির দায়ে ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিআইজি প্রিজন্স।
এদিকে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, “আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের সহযোগিতা জরুরি। দ্রুত অবহিত করা হলে তাদের আটক করা সহজ হতো।”
এই ঘটনায় কারাগারের ভেতর ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। হত্যা মামলার আসামিরা কীভাবে এত সহজে কারাগার থেকে বেরিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


























আপনার মতামত লিখুন :