×
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Active News 24
তিন দেশে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ নজরুল ,

তিন দেশে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ নজরুল ,


সম্পাদক ইনসাফ নিউজ | হাফেজ মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৫:০৯ এএম তিন দেশে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ নজরুল ,

 

 

তিন দেশে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ নজরুল , ক্যাশ’ সামলাতেন স্ত্রী শীলা

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

 

তবে সদ্য বিদায়ী এই উপদেষ্টার গত দেড় বছরের (১৮ মাস) কর্মকাণ্ড ঘিরে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিয়োগ-বাণিজ্য ও দাগি আসামিদের ‘অব্যাহতি’ দিয়ে অর্জিত হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের মূল কারিগর ছিলেন তাঁর স্ত্রী শীলা আহমেদ।

 

 

অভিযোগ উঠেছে, উপদেষ্টার ক্ষমতার আড়ালে পুরো আর্থিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন তাঁর স্ত্রী। নিয়োগ-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিকের মতো রাঘব বোয়ালদের ‘দায়মুক্তি’—সব লেনদেনই হয়েছে তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।

 

গত ১৮ মাসে এই দম্পতি প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

স্ত্রীর হাতেই ছিল ‘ক্যাশ’ ও সিন্ডিকেটের চাবিকাঠি

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড. আসিফ নজরুল নীতিগত সিদ্ধান্ত ও ফাইল সই করার দায়িত্বে থাকলেও, টাকার লেনদেন এবং বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়াটি সামলাতেন তাঁর স্ত্রী ও প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলা আহমেদ।

 

 

 

গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পিপি নিয়োগ, বদলি কিংবা বড় কোনো ব্যবসায়ীর মামলা প্রত্যাহারের ডিল ফাইনাল হওয়ার পর, সেই টাকা কোথায় এবং কীভাবে জমা হবে—তা নির্ধারণ করতেন শীলা।

 

 

দেশীয় লেনদেনের চেয়ে দুবাই ও সুইজারল্যান্ডের গোপন অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করার ওপরই জোর দেওয়া হতো বেশি।

 

এই সিন্ডিকেটের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ম্যাডামের (স্ত্রীর) ক্লিয়ারেন্স ছাড়া স্যার কোনো ফাইলে হাত দিতেন না। বিদেশে টাকার সংস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল ফাইলে সই পড়ত।’

 

 

আগরওয়ালকে খালাস ও বিদেশে লেনদেন।

 

 

বিদায়ের ঠিক আগমুহূর্তে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালকে আইনি সুরক্ষা ও মামলা থেকে ‘অব্যাহতি’ দেওয়ার যে ঘটনা ঘটেছে, তার নেপথ্যেও বড় ভূমিকা ছিল উপদেষ্টার স্ত্রীর।

 

 

অভিযোগ রয়েছে, আগরওয়ালকে জামিন এবং মামলা থেকে ‘ক্লিন চিট’ দেওয়ার বিনিময়ে যে ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, তা দুবাইয়ের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

 

 

এই লেনদেনের সম্পূর্ণ তদারকি করেছেন শীলা আহমেদ। আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘বড় বড় রাঘব বোয়ালদের ধরপাকড়ের ভয় দেখিয়ে প্রথমে চাপ সৃষ্টি করা হতো, পরে স্ত্রীর মাধ্যমে সমঝোতা করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অব্যাহতি দেওয়া হতো।

 

 

পারিবারিক সিন্ডিকেট ও ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার।

 

আইন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্যকে পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত করেছিলেন সদ্য বিদায়ী এই উপদেষ্টা। গত ১৮ মাসে এই খাত থেকে আয় করা বিপুল অর্থ দেশে না রেখে পাচার করা হয়েছে।

সূত্রমতে, সুইজারল্যান্ড, লন্ডন এবং মালয়েশিয়ায় শীলা আহমেদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

 

১৪ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল অংকের একটি বড় অংশই এখন বিদেশের মাটিতে। ক্ষমতা ছাড়ার আগেই অত্যন্ত সুকৌশলে এই দম্পতি দেশের টাকা বিদেশে সরিয়ে ফেলেছেন।

 

 

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ড. আসিফ নজরুলকে ঘিরে যে প্রত্যাশা ছিল, তা এই পারিবারিক লুটপাটের খবরে ধূলিসাৎ হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ‘একজন আইন উপদেষ্টা যখন তাঁর স্ত্রীকে দুর্নীতির সহযোগী বা ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন বিচার বিভাগের আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

 

 

নিয়োগ-বাণিজ্য এবং রাঘব বোয়ালদের অব্যাহতি দিয়ে তাঁরা কেবল নিজেদের পকেট ভারি করেননি, বরং ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’

 

 

নানা মহলে এখন,সদ্য বিদায়ী এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবি এখন সব মহলে জোরালো হচ্ছে।

ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

অর্থনীতি বিভাগের আরো খবর