পোলট্রি ও গবাদিপশুর খাদ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের খামারিরা ক্রমেই সংকটে পড়ছেন।
খাদ্যের পাশাপাশি ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে সেই অনুপাতে ডিম ও মুরগির বাজারমূল্য না বাড়ায় অনেক খামারি লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কেউ উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ খামার বন্ধ করার কথাও ভাবছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ি এলাকার পোলট্রি খামারি মোমিনুল ইসলাম জানান, আগে তিনি প্রতি মাসে ব্রয়লার মুরগির জন্য ৭০ বস্তা খাবার কিনতেন।
সম্প্রতি দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির কারণে এখন ৬০ বস্তা খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এতে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন হচ্ছে না এবং বাজারেও কম দাম পাচ্ছেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ফিড তৈরির প্রধান কাঁচামালগুলোর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
১৩ শতাংশ আর্দ্রতার ভুট্টার দাম প্রতি কেজিতে ৩১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছেছে।
একই সময়ে ডি-অয়েলড রাইস ব্রান (ডিওআরবি) ২৬ টাকা থেকে ৩৩ টাকা, সয়াবিন মিল ৫৮ টাকা থেকে ৬৬ টাকা এবং অন্যান্য উপকরণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মানসম্মত ফিড উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই কাঁচামাল ক্রয়ে ব্যয় হয়।
ফলে ভুট্টা, সয়াবিন মিল, রাইস ব্রান ও ডিওআরবির মতো উপকরণের দাম বাড়লে ফিডের মূল্যও বেড়ে যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম প্রতি টন ২৩৫-২৪০ ডলার থেকে প্রায় ২৯০ ডলারে উন্নীত হওয়ায় এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে।
বগুড়ার খামারি হাফিজুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের প্রাণিজ খাদ্যের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে।
৫০ কেজির এক বস্তা পোলট্রি ফিডের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৫ টাকায় উঠেছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার প্রাণিজ খাদ্য বিক্রেতা সলিম উল্যাহ জানান, খামারিদের উৎপাদন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশই খাবারের পেছনে যায়।
ভুট্টার দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ফিডের দাম আরও বেড়েছে।
ফিডের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত চার মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খামারিরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।
তাদের দাবি, ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে কর ও শুল্ক কমাতে হবে এবং ডিম-মুরগির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ
সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডিওআরবি ও রাইস ব্রানের সরবরাহ আগে দেশের চাহিদা অনুযায়ী নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর ভ্যাট, কর ও শুল্ক কমানো এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ভুট্টাসহ দেশে উৎপাদনযোগ্য কাঁচামালের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।
একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদকদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে ফিডসহ বিভিন্ন উপকরণের খরচ কমানোর বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে পোলট্রি পণ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ



















আপনার মতামত লিখুন :