×
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
Active News 24
কেপ ভার্দের ‘বালুদস্যু’ নারীদের লড়াই

কেপ ভার্দের ‘বালুদস্যু’ নারীদের লড়াই


ইনসাফ নিউজ | কাকলী আক্তার কেয়া প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম কেপ ভার্দের ‘বালুদস্যু’ নারীদের লড়াই

পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের সান্তিয়াগো দ্বীপের চার্কো সৈকতে প্রতিদিন

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র থেকে বালু সংগ্রহ করেন একদল নারী।

স্থানীয়ভাবে তারা পরিচিত ‘বালুদস্যু’ (স্যান্ড থিভস) নামে। চরম দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং

বিকল্প আয়ের অভাবে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজই তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।


ভাটার সময় তারা উত্তাল আটলান্টিকের ঢেউ পেরিয়ে সমুদ্রের তলদেশ থেকে কালো বালু তুলে আনেন।

১০ কেজিরও বেশি ওজনের বালুভর্তি বালতি মাথায় নিয়ে পিচ্ছিল পাথর ও প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তীরে ফিরতে হয় তাদের।

কয়েক সপ্তাহের কঠোর পরিশ্রমের পর এক ট্রাক্টর বালু বিক্রি করে তারা পান মাত্র ১৪০ ডলার।


১৩ বছর বয়সে দারিদ্র্যের কারণে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হওয়া ভানিয়া তাভারেস গত ১৬ বছর ধরে এই কাজ করছেন।

 

একইভাবে মারিয়া এলেনর মন্তেইরোসহ আরও অনেক নারী শারীরিক কষ্ট, আঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও পরিবার চালিয়ে যাচ্ছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে কেপ ভার্দের উপকূলীয় পরিবেশ

মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৈকতের প্রাকৃতিক বালুস্তর কমে যাওয়ায় উপকূল ভাঙন,

কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

এর ফলে বহু কৃষক তাদের জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।


দেশটিতে ১৯৯৭ সাল থেকে বালু উত্তোলন আইনত নিষিদ্ধ হলেও দারিদ্র্যের কারণে অনেক নারী এখনও এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে কিছু বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় কয়েকজন নারী পশুপালনের মতো বিকল্প জীবিকায় যুক্ত হয়েছেন।

 

পরিবেশকর্মীদের দাবি, টেকসই পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।


দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ধ্বংসের অংশ হয়ে ওঠায় অনেক নারীর মধ্যেই অনুশোচনা কাজ করছে।

তাদের প্রত্যাশা, বিকল্প আয়ের সুযোগ পেলে তারা আর কখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র থেকে বালু তুলতে ফিরবেন না।

ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ