সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ শ্রেণিকক্ষে সম্পন্ন করানোর
নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না।
ফলে শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও মৌলিক গণিতের দক্ষতা অর্জনে
নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবির সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নে দেশের
২০ জেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায়, কোনো
বিদ্যালয়েই পাঠ্যবইয়ের ‘নিজে করি, দেখি পারি কিনা’ অনুশীলন অংশ নিয়মিত চর্চা করানো হচ্ছে না।
শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ অংশ সম্পন্ন করাচ্ছেন না।
এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মতে, পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ নিয়মিত সম্পন্ন করলে
শিক্ষার্থীদের পড়া, লেখা ও বোঝার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হওয়ার কথা।
কিন্তু বাস্তবে সেই দক্ষতায় বড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিটের মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরিদর্শন করা
বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ ‘এ’ মান অর্জন করেছে।
৫২ শতাংশ বিদ্যালয় ‘বি’ এবং ৩৬ শতাংশ বিদ্যালয় ‘সি’ শ্রেণিতে রয়েছে।
পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে এবং মৌলিক গণিত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
পরিস্থিতি উন্নয়নে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোকে
শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি বই থেকে অন্তত পাঁচ
পৃষ্ঠা উচ্চস্বরে পড়ানোর এবং যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের চর্চা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন,
ভবিষ্যতে পাঠ্যবই ও ওয়ার্কবুক আলাদা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
অনেক দেশে এ পদ্ধতি ইতিবাচক ফল দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে শিক্ষাবিদরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের রিডিং দক্ষতার দুর্বলতার জন্য শুধু অনুশীলন অংশ সম্পন্ন না হওয়াকে দায়ী করা ঠিক হবে না।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষণ পদ্ধতি, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং
পারিবারিক সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
ডেস্ক / ইনসাফ নিউজ

























আপনার মতামত লিখুন :